রাজশাহীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা ও ফুটেজ গায়েবের অভিযোগ

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ১০ জন সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিক মহলে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদকর্মী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। পূর্ব কোনো উসকানি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। হামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আরও প্রায় ছয়জন সংবাদকর্মী।

এদিকে হামলার পর হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়। কিন্তু হল প্রভোস্ট তা প্রদানে গড়িমসি ও অস্বীকৃতি জানান। ফুটেজ গায়েব বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরবর্তীতে সাংবাদিকেরা নিজ উদ্যোগে সিসিটিভির হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করেন। তবে হার্ডডিস্ক পরীক্ষা করে সেখানে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের রক্ষার্থে হল প্রভোস্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই সিসিটিভি ফুটেজ সম্পূর্ণ ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধের শামিল।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, আবাসিক হলে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ওই সময় সিসি ক্যামেরাগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল; মূলত সে কারণেই কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক সমস্ত তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষিত আছে। যেকোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ আসতে পারে, তবে সত্য উদ্ঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

০%
০%
০%
০%