জামালপুরের বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টার পৃথক অভিযানে ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তু এবং সাত বোতল ভারতীয় মদসহ ১১ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-২) পুলিশ। শুক্রবার পরিচালিত এসব ঝটিকা অভিযানে মাদক ও প্রত্নতাত্ত্বিক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার সভাচর এলাকায় রফিকুলের মনোহারি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. বাহাদুর আকন্দ (৪৬) ও মো. এশরাদ আলী (৩৯) নামের দুজনকে আটক করা হয়। তাদের উভয়ের বাড়ি ইসলামপুর উপজেলাতেই। মাদক ব্যবসার মূল উৎস উদঘাটনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরদিকে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া বাজারে ফরহাদ হোসেনের ইলেকট্রিক দোকানের পেছনের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তুসহ আটজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন সাইদুল ইসলাম (৪১), ফরহাদ হোসেন (৩৫), বাবু মিয়া (৪২), ফেলু মিয়া (৩১), আমজাদ হোসেন (৭০), জোয়াহের (৫৩), সবুজ মিয়া (৪৪) ও কামরুজ্জামান ওরফে রিপন (৬০)। তাদের মধ্যে প্রথম চারজন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার এবং বাকি চারজন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলার বাসিন্দা। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টিপাথর চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
এদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন বাট্টাজোড় বাজারে অভিযান চালিয়ে সাত বোতল ভারতীয় মদসহ হারান বণিক (৫৫) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি বকশীগঞ্জ পৌরসভার সীমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। চোরাচালানের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব মাদক ও প্রত্নবস্তু সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অভিযানের বিষয়ে ডিবি-২-এর ইনচার্জ সজীব রহমান জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাই বস্তু জব্দের পর আটক ১১ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে জেলাজুড়ে ডিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।