সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে আফগানিস্তান। ফাইনালে রশিদ খানের দুর্দান্ত বোলিং এবং ইব্রাহিম জাদরানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে এই সহজ জয় তুলে নেয় আফগানরা।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শুরুতেই আফগান পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়ে তারা। ফজলহক ফারুকীর জোড়া আঘাত এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের শিকারে মাত্র ২৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পরবর্তীতে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার সিকান্দার রাজা একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৯৬ বলে ৬৮ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৭তম ফিফটি তুলে নেন। রায়ান বার্লের সাথে তার ৬০ রানের জুটির ওপর ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জিম্বাবুয়ে। তবে মোহাম্মদ নবীর ঘূর্ণিতে বার্ল (৩১) আউট হলে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নবী।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে এরপর ধস নামান রশিদ খান। তিনি একে একে ব্র্যাড ইভান্স ও নিউম্যান এনইয়ামহুরিকে সাজঘরে ফেরানোর পর সিকান্দার রাজাকেও থামান। শেষ দিকে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ৩২ রানের একটি ছোট জুটি জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে সামান্য বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত ৪৩.৩ ওভারে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান ৪১ রান খরচ করে শিকার করেন ৩টি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ নবী, ফজলহক ফারুকী ও বিলাল সামি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট লাভ করেন।
জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন আফগান ওপেনাররা। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও ইব্রাহিম জাদরান অপরপ্রান্তে দলের ইনিংসের অ্যাঙ্কর রোল পালন করেন। তিনি ৯৬ বলে অপরাজিত ৭০ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তিনে নামা রহমত শাহও দারুণ সঙ্গ দেন জাদরানকে। তিনি করেন ৪৩ রান। এই দুজনে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন মূল্যবান ৮২ রান। রহমত শাহ আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি।
ইনিংসের ৩৫তম ওভারের প্রথম বলে ওয়েসলি মাধভেরেকে চার হাঁকিয়ে ৩.৩ ওভার বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন শাহিদি ও জাদরান জুটি। এই জয়ের মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল আফগানিস্তান ক্রিকেট দল।