ভদোদরায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক ভারত। বল হাতে শ্রী চারানি ও ক্রান্তি গৌড়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে প্রতিকা রাওয়ালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং শেফালি ভার্মার ঝড়ো ফিফটিতে ভর করে ২২.৫ ওভার হাতে রেখেই ১৯০ রানের লক্ষ্য সহজে টপকে যায় ভারত। তিন ম্যাচের এই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শুরুতেই লরিন ফিরিকে হারায় তারা। ক্রান্তির চমৎকার রিটার্ন ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই ব্যাটার। পাওয়ার প্লের পর জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৬ রান। এর আগে ভারতীয় ফিল্ডারদের কিছু ভুলের সুযোগ নিলেও দলীয় ইনিংস খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি।
টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন আক্রমণে আসেন শ্রী চারানি। প্রথম ওভারটি মেডেন নেওয়ার পর পরের ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন চিপো মুগেরি-ত্রিপানোকে। এরপর মডেস্টার মুপাচিকওয়াকে মিড-অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন চারানি। দীপ্তি শর্মা শার্নে মায়ার্সকে আউট করলে ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এরপর প্রিয়াবিজা একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫২ রান করেন। মিশেল মাভুঙ্গার ২৯ রানের সুবাদে জিম্বাবুয়ে ৪৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৯৭ রান সংগ্রহ করে। ভারতের পক্ষে শ্রী চারানি মাত্র ২৩ রান খরচ করে শিকার করেন ৪ উইকেট এবং ক্রান্তি গৌড় নেন ৩ উইকেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ভারতের দুই ওপেনার। প্রতিকা রাওয়াল এবং স্মৃতি মান্ধানা প্রথম ১০ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তোলেন বিনা উইকেটে ৭২ রান। মান্ধানা ৩২ রান করে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেও থামানো যায়নি প্রতিকাকে। ৫৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোতে থাকেন তিনি।
এরপর উইকেটে এসেই তাণ্ডব শুরু করেন শেফালি ভার্মা। মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করা শেফালি ছক্কার ঝড় তুলে ২৯ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করেন। অন্যদিকে প্রতিকা রাওয়াল ৯৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ১০০ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে দুর্দান্ত সূরনা করল ভারতীয় নারী দল।