ঈদগাঁও থানা হাজত থেকে কৌশলে কিশোর আসামি পলায়ন ও পরদিন পুনরায় আটক

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা হাজতের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার মাত্র একদিন পর শুক্রবার বিকেলে রামু উপজেলার কলঘর মহাসড়ক এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোর আসামিকে ফের আটক করেছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে থানা হাজত থেকে ওই কিশোরের পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। আটক আব্দুল্লাহ রামু উপজেলার উমখালী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণি সওদাগরপাড়ার মো. কালু মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে রাতে থানার মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে একজন আসামি কীভাবে পালিয়ে গেল—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি পুরো রাত ও পরদিন দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ গোপনীয়তার আড়ালে রাখে পুলিশ প্রশাসন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ কিশোরটির ছবি দেখালেও আটকের আসল কারণ সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করেনি, যা এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়াশার জন্ম দেয়।

থানা হাজত থেকে আসামি পালানোর সত্যতা স্বীকার করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, রাতে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে হাজত থেকে বের হয়ে কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিল ওই কিশোর। খবর পাওয়ার পরপরই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় এবং শুক্রবার বিকেলে তাকে আবার আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে কিশোরটির অপরাধ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওসি জানান যে, বিপুল পরিমাণ মদসহ তাকে আটক করা হলেও আইনগত বয়সের কারণে তাকে প্রচলিত অর্থে 'আসামি' লেখা যাবে না, কারণ সে শিশু এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। ওসির এমন দ্বিমুখী বক্তব্য সাংবাদিক ও স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে থানা হাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের জোরালো ধারণা, মাদক সিন্ডিকেট বা কোনো প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে থানার অভ্যন্তরীণ কারও যোগসাজশেই এই পালানোর পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, অথবা এটি অন ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের চরম পেশাগত গাফিলতির ফল। ঈদগাঁও উপজেলায় সম্প্রতি বেড়েই চলা ডাকাতি ও গরু চুরির মতো অপরাধের পাশাপাশি থানা থেকে আসামি পালানোর এই ঘটনা এখানকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার উদ্বেগে থাকা সাধারণ বাসিন্দারা।

০%
০%
০%
০%