প্রকল্প বাস্তবায়নের সরকারি অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ফকিরহাট শাখার তৎকালীন কম্পিউটার ইনচার্জসহ দুজনকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী চাঞ্চল্যকর এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইয়াছিন আলী সংবাদমাধ্যমকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কৃষি ব্যাংক ফকিরহাট শাখার তৎকালীন কম্পিউটার ইনচার্জ মিঠুন দে এবং একই উপজেলার শিইয়ালীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সনাতন বালা। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত মিঠুন দে পলাতক ছিলেন। আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয় আসামিকে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী মো. সেলিম মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিসূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফকিরহাট উপজেলার কৃষি ব্যাংক শাখায় এপ্রুভড গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (ইজিপিপি) প্রকল্পের নামে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। তৎকালীন সময়ে অভিযুক্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তারা ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপের এই ঘটনাটি ধরা পড়ার পর সে বছর ১৩ মে তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাঈদা দিলরুবা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জালিয়াতি ও দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ১১ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করলেন। সমাজের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধ দমনে এ ধরনের রায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।