সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের নির্মম গুলিতে সাহেব আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, এই হত্যাকার্চণ্ডের নেপথ্যে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় রনি ও আসলাম নামের দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

ইত্তেহাদ টাওয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাহেব আলী উত্তেজিত অবস্থায় ওয়াপদা কলোনি এলাকায় আসেন। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের রনি তাকে লক্ষ্য করে মাথায় সরাসরি গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পাশের একটি খালে পড়ে গেলে ঘাতকরা তাকে লক্ষ্য করে আরও দুটি গুলি ছোড়ে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহত সাহেব আলীর অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০টি গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার ৩টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ৫টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির অভিযোগে ২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং খুনিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এদিকে দিনদুপুরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%