নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন শীর্ষ আসামি গ্রেপ্তার

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যা মামলার অন্যতম শীর্ষ সন্দেহভাজন আসামি অপূর্বকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অপূর্ব দুর্গাপুরের শমশের আলীর ছেলে। সে এর আগে নেত্রকোণায় চাঞ্চল্যকর এক পুলিশ হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া অন্যতম আসামি। মূলত সাংবাদিক আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা ওঁত পেতে থাকলেও চেহারার মিল থাকায় ভুলবশত এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। পুলিশ তালিকাভুক্ত ও ধুরন্ধর এই আসামি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আত্মগোপনে ছিল। শনিবার রাতে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও গতিবিধির তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ৫ থেকে ৬ জনের একটি চক্র অংশ নিয়েছিল। এর পেছনে কলকাঠি নাড়তে এবং অর্থ জোগান দিতে আরও একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে। আটক অপূর্বকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা সদস্য ও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’র কর্ণধার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ। নৃশংস এই হামলায় নিহতের শরীরে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত একটি বিশেষ টিম বর্তমানে যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও নিহত সাংবাদিকের পরিবার।

০%
০%
০%
০%