সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে সাড়ে ষোল হাজার যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের রিয়াদের কৌশলগত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তা সংকটের কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১০৭টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রীর যাত্রা বাতিল হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা (এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরিসংখ্যাম তুলে ধরে স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব জানান, সরাসরি পরিচালিত ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন দুই বাংলাদেশি প্রবাসী—বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী।

বিমানবন্দরের এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ও হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রবাসী ও তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে।

০%
০%
০%
০%