গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় এমপিপুত্র ডিবি হেফাজতে

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩০) টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়ার খামারনাচকৈড় মহল্লার রবিউল করিমের ছেলে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার গভীর রাত একটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে হেফাজতে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর রাত দশটার দিকে হেলমেট পরিহিত দুই দুষ্কৃতকারী মোটরসাইকেলে এসে চাঁচকৈড় বাজারপাড়ায় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় তাঁরা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন এবং পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট শাকিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় সেদিন রাতেই চিকিৎসকেরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবস্থার আরও অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

শাকিলের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার রাত দশটার দিকে চাঁচকৈড় বাজারে যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। এদিকে, নিহত শাকিলের মরদেহ নিয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং রাত আটটায় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে।

এর আগে শাকিল চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখতে যান এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। শাকিলের অনভিপ্রেত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। একইসঙ্গে অপরাধীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, ১৯ অক্টোবর নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। খুব দ্রুতই প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%