গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত তরুণ পেসার নাহিদ রানার কোমরের নিচের অংশ এবং পেলভিক এলাকায় মারাত্মক দুর্বলতা ধরা পড়েছে। আর এই শারীরিক দুর্বলতার কারণেই মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে এই গতি তারকাকে। চিকিৎসকদের স্ক্যানে নতুন কোনো বড় চোট বা ইনজুরি ধরা না পড়লেও মূলত পেশির শক্তির ঘাটতি এবং ব্যথার কারণে বোলিং করতে পারছেন না তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নাহিদ রানা বর্তমানে চোটগ্রস্ত না থাকলেও বোলিং করতে গেলেই তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন। ইতিপূর্বে শিন বোন ও সাইড স্ট্রেইনের মতো টানা দুটি ইনজুরি থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন নিম্ন অঙ্গের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম বা শক্তি অর্জনের অনুশীলন করতে পারেননি এই পেসার। দৌড়াতে কোনো সমস্যা না হলেও বোলিংয়ের বাড়তি কাজের চাপ নিতে গেলেই কোমর ও পেলভিক অঞ্চলের দুর্বলতা ফুটে উঠছে।
এই পেসারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং চোটের প্রকৃত অবস্থা জানতে তাকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে কাতারের ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা থাকায় কাতার কিংবা সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সেখানেও তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
পূর্ণ ফিটনেস অর্জন না করা পর্যন্ত নাহিদ রানাকে মাঠে ফেরানোর কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের এক সদস্য। মেডিকেল ইউনিটের মূল্যায়ন সঠিক প্রমাণিত হলে পূর্ণ শক্তি ফিরে পেতে এই গতি তারকার চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর ফলে অক্টোবরের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে তার ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এর পরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের একটি অংশ নিয়েও শঙ্কা জেগেছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একজন খেলোয়াড়ের কেবল মাঠে ফেরার উপযুক্ত হওয়া আর ম্যাচ খেলার জন্য সেরা ছন্দে প্রস্তুত হওয়ার মধ্যে তফাৎ রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে এই পুরো পুনর্বাসন ও শক্তি অর্জনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচের কথা না ভেবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী নাহিদ রানাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলার ওপরই এখন সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।