ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্বের হাতছানি হ্যারি ব্রুকের চোখে পরম সম্মানের প্রতীক

ইংল্যান্ড টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন হ্যারি ব্রুক। বেন স্টোকসের অবসরের পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অধিনায়কের পদটি শূন্য হওয়ায় নতুন নেতা খুঁজছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। আর সেই দৌড়ে নিজেকে যোগ্য দাবি করে ব্রুক জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে তার জন্য পরম সম্মানের এবং বিশেষ অধিকারের বিষয়। তিনি বরাবরই জাতীয় দলের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠার প্রমাণ দিয়ে এসেছেন।

বেন স্টোকসের আকস্মিক বিদায়ের পর দলের নেতৃত্বভার নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনা চলছে। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে জো রুটকে আপৎকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কে দলের হাল ধরবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রুট ৬৫টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে রেকর্ড গড়লেও পুনরায় পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নিতে খুব একটা আগ্রহী নন। এমন পরিস্থিতিতে ব্রুককেই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন অনেকে, খোদ স্টোকসও তার ওপর পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রুক তার টেস্ট খেলার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, টেস্ট ক্রিকেট খেলা তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি এই ফরম্যাটের অধিনায়ক হওয়ার স্বপ্ন লালন করে এসেছেন। রুটকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ব্রুক জানিয়েছেন, গত ম্যাচে রুটকে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল শতভাগ সঠিক। রুট ইংল্যান্ড ক্রিকেটের স্তম্ভ এবং সর্বকালের সেরা ব্যাটার, তাই কঠিন সময়ে তার দায়িত্ব নেওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। ব্রুক নিজে সেই ম্যাচে স্লিপে দাঁড়িয়ে রুটের সঙ্গে নিয়মিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করে তাকে সহায়তার চেষ্টা করেছেন।

টেস্ট অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ব্রুক বেশ সচেতন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবকিছুই কঠিন এবং এই দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তুত। নিজের ক্যারিয়ারের মূল লক্ষ্য স্থির করতে গিয়ে তিনি জানান, আইপিএল বা পিএসএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে পাশ কাটিয়ে তিনি শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতেই আগ্রহী। ‘দ্য হান্ড্রেড’ ছাড়া অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে না খেলার কারণ হিসেবে তিনি ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের প্রতি নিজের শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

আগামী ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সিরিজের আগে টেস্ট অধিনায়কত্বের বিষয়টি কিছুটা স্থিমিত থাকলেও, ব্রুকের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দল পরিচালনায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন আপাতত সব মনোযোগ ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ব্রুক এবং তার দল। তার এই একাগ্রতা এবং দেশপ্রেম ইংল্যান্ডের ভবিষ্যতের নেতৃত্বের প্রশ্নে তাকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।

০%
০%
০%
০%