নতুন অর্থবছরে দেশের একশটি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বিশেষ কার্ডের আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। কৃষিখাতে মৌলিক রূপান্তর সাধন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রকল্পে এক হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আটটি বিভাগের দশটি জেলার এগারোটি উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে প্রি-পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা প্রতি বছর আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা ছাড়াও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দশ ধরনের বহুমুখী সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উল্লেখ্য যে, এই কার্ড কর্মসূচিতে মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদনে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষিবিমা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে। আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্যে ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে চার শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে।
একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ চাষে চার শতাংশ এবং পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ সুদে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কৃষিখাতকে অধিকতর শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে তফশিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলেও জানান তিনি।