রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষে ড্রোন কর্মসূচির জন্য ৯৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করল তাইওয়ান

বেইজিংয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘ ২৬৬ দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করেছে তাইওয়ানের বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত সংসদ। গত শুক্রবার পাস হওয়া ৯৩ বিলিয়ন ডলারের এই বাজেটে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ড্রোন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল বহাল রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রশাসনের জন্য এই বাজেট অনুমোদনকে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্বশাসিত দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত এই বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে ড্রোন উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য, যা শুরুতে প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। বিরোধী জোট প্রথমে এই খাতের বরাদ্দ ৭০ শতাংশ কমানোর হুমকি দিলেও, পরবর্তীতে উন্নয়ন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় না মেলায় তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবে বাজেট পাসের আগে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সাময়িক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে সচল রাখতে হয়েছিল।
ড্রোন খাতের বরাদ্দ রক্ষা পেলেও অন্যান্য কয়েকটি খাতে বড় ধরনের বাজেট কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রধানদের বিশেষ ভাতা ৬০ শতাংশ, সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা খাতে ২.৫ শতাংশ এবং গণমাধ্যম ও প্রচার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর সংসদের স্পিকার হান কুও-ইউ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল এবং একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছিল, যা ভবিষ্যতের জন্য কাম্য নয়।
এর আগে গত মে মাসেও বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত সংসদ সরকারের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট ৩৮ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি যুদ্ধ ড্রোন কর্মসূচির বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর কাছে মাত্র ৫ হাজারেরও কম ড্রোন রয়েছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী চীন চলতি বছরই প্রায় ১০ লাখ ড্রোন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে তাইওয়ানের জন্য এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
