উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনে একজন বেকার এক বছরের বেশি সময় ধরে

উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থেকে বেকারত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনে অন্তত একজন এক বছরের বেশি সময় ধরে বেকার থাকেন। বিনিয়োগের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার সাথে পাঠ্যক্রমের অসামঞ্জস্যের ফলে দেশের শ্রমবাজার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার, যার মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজারই ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
চাকরি খোঁজার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের প্ল্যাটফর্মে ৫০ লাখ চাকরিপ্রত্যাশীর প্রোফাইল যুক্ত রয়েছে। গত দুই বছরে এই প্ল্যাটফর্মে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা ৩৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দুই লাখের বেশি মানুষ কাজের সন্ধানে এই মাধ্যমে প্রবেশ করলেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞ জনবল খোঁজার প্রবণতা নতুন স্নাতকধারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর জানান, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ৪০ শতাংশেরও বেশি তরুণ এক বছরের অধিক সময় বেকার থাকছেন। শ্রমবাজারে প্রতি বছর নতুন করে ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ প্রবেশ করলেও তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী বিনিয়োগ বা শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। চাহিদার তুলনায় শোভন কাজের সুযোগ কম থাকায় অনেক উচ্চশিক্ষিত তরুণ হতাশ হয়ে পড়ছেন।
দেশের শ্রমবাজারে বর্তমানে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২ কোটি ৪৮ লাখ তরুণ-তরুণী রয়েছেন। এর মধ্যে ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষ কোনোভাবে কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী একটি বড় অংশ ছদ্মবেকারত্বের শিকার। সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা কাজ পেলেই কর্মসংস্থানের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বেকারের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গত দুই বছরে বড় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গত জুলাই মাসে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। দক্ষ জনবলের অভাব এবং শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের ঘাটতি তরুণদের স্বপ্ন পূরণের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
