নিত্যপণ্য আমদানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা গ্রুপ, দুই ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ অবস্থানে সিটি গ্রুপ

দেশের নিত্যপণ্য আমদানির বাজারে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিগত দুই দশকের অধিকাংশ সময় শীর্ষস্থান দখল করে রাখা সিটি গ্রুপ আর্থিক সংকটের কারণে এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে। বিপরীতে, টানা তৃতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বা এমজিআই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানি তথ্যে দেশের নিত্যপণ্য বাণিজ্যের এই নতুন চিত্র উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচ্য বিশ্লেষণে চিনি, পাম তেল, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, সয়াবিন বীজ, গম, মসুর ডাল, মটর ডাল ও ছোলাকে নিত্যপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসব পণ্য আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টন, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৭০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে ১ কোটি ৩৩ লাখ টনের বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ৬৮১ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি পরিমাণ ১৬ শতাংশ বাড়লেও ব্যয় বেড়েছে ৩ শতাংশের নিচে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের তারতম্যকে নির্দেশ করে।

বাজারের শীর্ষ আমদানিকারক এমজিআই সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে ১৫১ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রায় ৩৩ লাখ টন নিত্যপণ্য আমদানি করেছে, যা মোট আমদানি ব্যয়ের ২২ শতাংশ। এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে তারা আমদানি বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ গত এক বছরে ৪০ শতাংশ আমদানি কমিয়ে ৫৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক চাপের ইঙ্গিত দেয়।

তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে ৭৯ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে টি কে গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস, যারা ৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। চিনি ও ভোজ্যতেল পরিশোধন খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি কর্মকাণ্ডে এই উল্লম্ফন দেখা গেছে। চতুর্থ অবস্থানে সিটি গ্রুপ এবং ১২ লাখ ৯৩ হাজার টন পণ্য আমদানির মাধ্যমে পঞ্চম অবস্থানে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে নাবিল গ্রুপ।

বিজ্ঞাপন

আমদানি তালিকায় বড় উত্থান ঘটেছে ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের। ডেল্টা এগ্রোফুড সাত ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে এবং প্রাণ-আরএফএল তিন ধাপ এগিয়ে নবম অবস্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (বিইওএল), অষ্টম স্থানে সরকারি খাদ্য বিভাগ এবং দশম স্থানে জহির গ্রুপ।

দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এস আলম গ্রুপ ও বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম আলোচ্য সাতটি পণ্য আমদানির তালিকায় এবার দেখা যায়নি। মূলত নতুন বিনিয়োগ, প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিত্যপণ্য আমদানির এই নতুন চালচিত্র তৈরি হয়েছে। দেশের নিত্যপণ্য চাহিদার ৮৯ শতাংশই যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই শীর্ষ আমদানিকারকদের এই অবস্থান পরিবর্তন সরাসরি দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে।

0%
0%
0%
0%