বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ৪৮৮ কোটি টাকার ক্ষতি খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক দিনের তীব্র বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অন্তত ৪৮৮ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেটসহ ১৬টি জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের খামার ও গবাদিপশুর খামার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রোববার পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৮২ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান এখনো তলিয়ে আছে। এছাড়া ৯ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২০ হাজার হেক্টরের বেশি সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহে ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা দাঁড়িয়েছে ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। বন্যায় প্রায় ৩৪ হাজার পুকুর ও খামার এবং ৩ হাজার ৮৮৯টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৬টি মাছ ধরার নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচজন জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১ কোটি ৫ লাখ টাকায়। সারা দেশে ৪ হাজার ৮১৯টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আড়াই হাজারেরও বেশি হাঁস-মুরগি মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার টন দানাদার পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে এবং খড় ও ঘাসের খেত তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের তীব্রতা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান সতর্ক করে জানিয়েছেন, আউশ ধানের প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চালের উৎপাদন প্রায় ৩ লাখ টন কমতে পারে। এর ফলে চালের বাজারে যে চাপ সৃষ্টি হবে, তা দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তিনি দ্রুত খামারি ও কৃষকদের নগদ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পশুখাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার তাগিদ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিশেষ প্রণোদনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলায় মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও ত্রাণসহায়তা ও পুনর্বাসনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

0%
0%
0%
0%