AdvertisementAdvertisement

ডিমের বাজারে ভয়াবহ ধস খামারিদের রক্ষায় ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির দাবি

ডিম উৎপাদন পর্যায়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও খামারিরা তা ৬ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, ডিজিটাল ডেটাবেজ প্রণয়ন এবং বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমানে এই খাতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। উৎপাদন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং করপোরেট করের উচ্চহারের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে এই শিল্প থেকে ছিটকে পড়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ডিমের ক্ষেত্রে ধান ও আখের ন্যায় ন্যায্যমূল্য বা ফেয়ার প্রাইস ব্যবস্থা চালুর জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। খামারিদের দাবি, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের ওপর বিদ্যমান ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে, কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালের ওপর এমন কোনো কর আরোপের নজির নেই। খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজার নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পোলট্রি শিল্পের সামগ্রিক চিত্র স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। মো. সাফির রহমান ও অঞ্জন মজুমদারসহ অন্য বক্তারা দাবি করেন, নিবন্ধিত খামারিদের জন্য ফার্মার আইডি প্রবর্তন করা হলে প্রকৃত উৎপাদনকারীর কাছে ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ পৌঁছানো সহজ হবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং সমবায়ভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই শিল্পকে রক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত- খামার ডিম
0%
0%
0%
0%