টানা চতুর্থবার বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের স্বীকৃতি সিঙ্গাপুরের দখলে

বিলাসী জীবনযাপনের ব্যয়ের সূচকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ব্যয়বহুল শহরের খেতাব ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জুলিয়াস বেয়ার গ্রুপের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ঘড়ি ও গয়নার মতো বিলাসপণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তিদের জীবনধারাকে আরও মহার্ঘ্য করে তুলেছে।
জুলিয়াস বেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহর। সুইস মুদ্রা ফ্রাঁর মান বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে শহরটি লন্ডনকে পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মোনাকো, যা ২০২০ সালে জরিপ শুরুর পর এই প্রথম শীর্ষ তিনে জায়গা করে নেওয়ার অনন্য নজির স্থাপন করল। তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে রয়েছে হংকং ও লন্ডন।
সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থান ধরে রাখার নেপথ্যে মূলত দেশটির আবাসন খাতের উচ্চমূল্য এবং ব্যক্তিগত গাড়ির আকাশচুম্বী ব্যয় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরি ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বিলাসপণ্যের ব্যয় তুলনার মাধ্যমে এই সূচকটি প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক বছরে অতি সম্পদশালী ব্যক্তিদের বিলাসী জীবন বজায় রাখার ব্যয় গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতির সরাসরি প্রভাবে গয়নার দাম ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ঘড়ির দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া উচ্চবিত্তদের ৪৭ শতাংশ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও গত এক বছরে তাদের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
জুলিয়াস বেয়ারের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান গ্যাটিকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা, যার ফলে স্থিতিশীল শহর ও দেশগুলো ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সমীক্ষায় ২৫টি শহরের আবাসন, বিলাসবহুল ডিনার, প্রাইভেট জেট, স্কুল টিউশন ফি ও যাতায়াতসহ ২০ ধরনের বিলাসপণ্যের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, যা ছয় ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে দুবাইয়ের অবস্থান ১৪তম স্থানে নেমে এলেও প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, শহরটির ব্যয় কমেনি বরং অন্যান্য শহরের ব্যয় বৃদ্ধির হারের তুলনায় দুবাই কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। ভৌগোলিক ও মুদ্রানীতির জটিল সমীকরণে এবার টানা তৃতীয় বছরের মতো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো শহর শীর্ষ ১০-এর তালিকায় স্থান পায়নি।