নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, যেখানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী সংকোচনমুখী নীতি অনুসরণের পরেও তা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করায় ব্যবসায়ী মহলে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিয়মমাফিক মুদ্রানীতি ঘোষণা এখনকার চরম অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে যথেষ্ট নয়, বরং ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

মূল্যস্ফীতিকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে শুধু নীতি সুদহারের ওপর নির্ভরতা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন জাগিয়েছে। এটি কেবল সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, যেখানে সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় এবং আমদানির চাপ মোকাবিলায় মুদ্রানীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি এখন সামগ্রিক সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল।

অর্থনীতির চাকা সচল করতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই, অথচ জ্বালানিসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব এখনো কাটেনি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে রপ্তানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাপ; বিশেষত পোশাক শিল্পে ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, বিনিয়োগের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করতে হলে কাঠামোগত সংস্কারের গতি বাড়াতে হবে।

মুদ্রানীতিতে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো নিয়ে নানামুখী শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতকে নির্বাচন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতির কারণে প্রণোদনার অর্থ কতটা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একইসাথে বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী শক্তির দৌরাত্ম্য থাকায় বাজেটে করছাড়ের সুবিধা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সামগ্রিক বিবেচনায় শুধু মুদ্রানীতির ওপর ভরসা না রেখে আর্থিক খাত, করব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সাহসী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরিবর্তে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ আরও সুদূরপরাহত হবে।

0%
0%
0%
0%