আর্ন প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থান বাড়াতে আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের অনুমোদন

দেশের আটটি বিভাগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট’ বা ‘আর্ন’ প্রকল্পের আওতায় ১০টি প্যাকেজে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী, শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নয় লাখ তরুণ-তরুণীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এই প্রকল্প। এই জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশই নারী, যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। এছাড়া প্রকল্পটি দেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়াশিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণসহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি মূলত গ্রামীণ জনপদের যুবকদের অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা যুব জনগোষ্ঠীর হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যা দেশের শ্রমবাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় মোট ৪০১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল, যার মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী ধাপে ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পর বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করা হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে সর্বাধিক নম্বর পাওয়া এনজিওগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন করা হচ্ছে।
আর্ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই উন্নয়ন উদ্যোগটি বাংলাদেশের যুবশক্তির উন্নয়ন ও সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।