মুদ্রাবাজারে বিদেশি মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত স্থিতিশীল ডলারের দর

দেশের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসেও বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও অনুভূত হচ্ছে, যার ফলে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা অপরিবর্তিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের লেনদেন হচ্ছে তুলনামূলক চড়া দামে। এই বিনিময় হারের ব্যবধান আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুদ্রাবাজারের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের মতো শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর বিপরীতে টাকার মান হ্রাস পেয়েছে। তবে ভারতীয় রুপি ও চীনা ইউয়ানের বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার এই ঊর্ধ্বমুখী বিনিময় হার দেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিকে আরও ঘনীভূত করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘমেয়াদী এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা এবং খোলাবাজারের ওপর নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, নতুবা ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%