ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান গভর্নরের জরুরি তারল্য সহায়তার আশ্বাস

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের দুশ্চিন্তা নিরসনে আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তাঁরা যেকোনো সময় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা বিশেষ নীতিমালা ও সরঞ্জামের মাধ্যমে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
ব্যাংক খাতের বর্তমান আস্থার সংকট ও ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতা নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, ব্যাংকটির প্রয়োজনীয় জরুরি তারল্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে একটি সিস্টেমেটিক বা বড় ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পর্ষদ গঠন অপরিহার্য হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর ছিল ৯৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা হলো ৯২ শতাংশ। এহেন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তারল্য চাহিদা মেটাতে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এই অনুপাত নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ব্যাংকটিতে চলমান বিশৃঙ্খলা ও গ্রাহক আস্থার সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে অনেক গ্রাহক টাকা তুলে নেওয়ায় যে তারল্যসংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে গভর্নর পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
