বিশ্ববাজারে দরপতন: দেশের বাজারে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমল সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দরের নিম্নমুখী প্রবণতাকে অনুসরণ করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সমন্বয়ের ফলে প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত কিছুদিনের ধারাবাহিকতায় এটি সোনার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সোনার দাম কয়েক দফায় সমন্বয় করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, পবিত্র ঈদুল আজহার পরবর্তী সময়ে দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনায় মোট ১৫ হাজার ৩৩৯ টাকা কমেছে। গত ৬ জুন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২ জুন ৩ হাজার ২৬৬ টাকা হ্রাসের পর সর্বশেষ এই মূল্য সংশোধন এল।
নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকায় বিক্রয় হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৫ টাকা দরে বেচাকেনা হবে। সোনা ছাড়াও রুপার দামেও বড় ধরনের সমন্বয় এসেছে; ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা এখন ৩৫০ টাকার বেশি কমে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায় স্থির হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৪১৬ ডলার হ্রাস পেয়েছে, যার মধ্যে কেবল বুধবারেই কমেছে ৬৮ ডলার। বর্তমান বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৪ ডলার, যা বছরের শুরুতে ৫ হাজার ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছিল। যদিও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা থাকে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও উল্টো পথে হাঁটছে ধাতব বাজার।
