বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর ও শুল্ক প্রশাসনে স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসি বাংলাদেশ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।
আইসিসি বাংলাদেশ সভাপতি মাহবুবুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বিস্তারে বেসরকারি খাতের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়, কৃষিপণ্য ও তুলা আমদানি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেন, যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপরিসরে পর্যালোচনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ, টেকসই এবং পারস্পরিক লাভজনক একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে সমর্থ হবেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে হলে শুল্কবহির্ভূত বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসন করতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি রূপালী চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও সুশাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো উন্নয়নশীল ও উন্নত সব দেশের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান, যা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, টেকসই উৎপাদন ও শ্রমমানের ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে। অন্যদিকে, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে স্বনির্ভরতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানান। তিনি বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবার বা এমএমএফ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগে তুলা সংরক্ষণাগার ও বিশেষায়িত সুবিধা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।