পুঁজিবাজারের সংকট সমাধানে নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বহুজাতিক কোম্পানির প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মাসুদ খান। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর তিনি তাঁর দায়িত্ব বুঝে নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অস্থিতিশীলতা ও আস্থার সংকট নিরসনে নতুন কমিশনের ওপর বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মাসুদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের বাকি সদস্যরা হলেন তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব এবং নাফিজ আল তারিক।
২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর থেকে গত ১৬ বছরে বিএসইসির নেতৃত্বে তিন দফায় পরিবর্তন এলেও কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ও স্থিতিশীলতা অধরা থেকে গেছে। এম খাইরুল হোসেনের সময়কালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্বল কোম্পানির আধিক্য বাজারকে নাজুক করে তোলে। পরবর্তী সময়ে শিবলী রুবাইয়াত–উল–ইসলামের মেয়াদে সেকেন্ডারি বাজার সিন্ডিকেটের কবজায় চলে যায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনও বাজারের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে অচলাবস্থা ও কর্মীদের মধ্যে কর্মস্পৃহা হারানোর মতো ঘটনা ঘটে।
নতুন কমিশনের সামনে এখন একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এর মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়া আইপিও ও সেকেন্ডারি বাজারের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো অন্যতম। একই সঙ্গে রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ক্ষত সারিয়ে তোলাও জরুরি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে রাজনৈতিক ও প্রভাবমুক্ত রেখে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মাসুদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর রূপকল্প তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে অহেতুক হস্তক্ষেপ না করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। বাজারকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার পাশাপাশি কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে রিয়েল–টাইম বা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি এবং শেয়ারের বাজারভিত্তিক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান।
শেয়ারবাজারের বর্তমান সংকট উত্তরণে বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান জানিয়েছেন, বাজারের ইকো সিস্টেম ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলো পুনরায় বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয়, সে পরিবেশ তৈরিতেই নতুন কমিশনের দক্ষতা ও সততার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা।
