জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় চাপে বিপর্যস্ত জনজীবন বলছে সিপিডি

জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ খাতের নতুন মাশুল বৃদ্ধিতে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রভাবে জনজীবন এক গভীর সংকট মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন জানান, গত এপ্রিল মাস নাগাদ জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের বর্ধিত ব্যয় এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় বেশ নিচেই রয়ে গেছে। এতে নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।
সিপিডির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি খাতের ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এই সময়ের ব্যবধানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ এবং পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের এই বাড়তি দরের প্রভাব সরাসরি পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ খাতে পড়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ ও বাস ভাড়া একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে। রান্নার গ্যাসের বাজারের অস্থিতিশীলতাও সাধারণ মানুষকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। গত মার্চ মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থাকলেও মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তা ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজারে বিদ্যমান সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যকে মূল্যস্ফীতি উসকে দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সন্ধিক্ষণে বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সাধারণ ভোক্তাকে আরও অসহায় করে তুলছে। এদিকে বিদ্যুৎ খাতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন নিম্নমুখী ছিল, তখনই দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক। তিনি নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপর বোঝা না চাপিয়ে বড় শিল্প গ্রাহক বা উচ্চতর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপর কর বা শুল্কের বোঝা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
