১ ট্রিলিয়ন ডলারের অভিজাত ক্লাবে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স

कृত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভূতপূর্ব জোয়ারে ভর করে এক ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এসকে হাইনিক্স। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেমরি চিপ প্রস্তুতকারক এই প্রতিষ্ঠানটি চলতি সপ্তাহে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন অনন্য কীর্তি। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের আকাশচুম্বী চাহিদার মুখে বিনিয়োগকারীদের বিপুল সাড়া এই অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
চলতি মাসেই এসকে হাইনিক্সের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স—একই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বজুড়ে ডিআরএএম এবং ন্যান্ড মেমরি চিপের ঘাটতির কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির এই জোয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে ২০২৬ সালে দেশটির প্রধান শেয়ার বাজার সূচক ‘কসপি’র মান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার এই চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৭.৬ ট্রিলিয়ন উওন বা প্রায় ২৪.৯ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে তাদের রাজস্ব আয় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২.৬ ট্রিলিয়ন উওন বা প্রায় ৩৪.৮ বিলিয়ন ডলারে।
বৈশ্বিক করপোরেট ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র ১৭টি প্রতিষ্ঠান এক ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছে, যার মধ্যে ১২টিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। ২০০৭ সালে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোচায়না, যদিও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দায় তাদের বাজারমূল্য তিন-চতুর্থাংশ হ্রাস পায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের আগস্টে অ্যাপল, একই বছরের সেপ্টেম্বরে আমাজন, ২০১৯ সালের এপ্রিলে মাইক্রোসফট এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অ্যালফাবেট এই গৌরব অর্জন করে।
বর্তমানে বিশ্বে এক ট্রিলিয়ন ডলার বা তার বেশি বাজারমূল্যের ১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হলো এসকে হাইনিক্স। বাকি তিনটি অ-মার্কিন প্রতিষ্ঠান হলো দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, তাইওয়ানের টিএসএমসি এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
