অস্ট্রেলিয়া-জাপান ৭ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ চুক্তি স্বাক্ষর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত অস্ট্রেলিয়া ও জাপান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নিবিড় করার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ৭০০ কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্ধারিত ১১টি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম ৩টির নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শনিবার মেলবোর্নে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মোগামি-শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজগুলোর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কোইজুমি শিঞ্জিরো। ‘মোগামি স্মারকলিপি’ নামে পরিচিত এই চুক্তির লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ শিল্প সহযোগিতা সহ সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করা।

চুক্তি অনুযায়ী, জাপানের মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ নাগাসাকি প্রিফেকচারে এই স্টিলথ ফ্রিগেটগুলোর মধ্যে ৩টি নির্মাণ করবে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার অস্টাল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় বাকি ৮টি জাহাজ তৈরি করবে।

জাপানে নির্মিত প্রথম যুদ্ধজাহাজটি ২০২৯ সালে সরবরাহ করা হবে এবং এটি ২০৩০ সাল থেকে পরিষেবা শুরু করবে বলে নির্ধারিত আছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্লেস এক বিবৃতিতে বলেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমানে তাদের নৌবহরের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও জানান, এই সাধারণ-উদ্দেশ্যের ফ্রিগেটগুলো একটি বৃহত্তর ও আরও শক্তিশালী সারফেস কমব্যাট্যান্ট নৌবহরের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যিক রুট এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিঞ্জিরো বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান ক্রমবর্ধমান গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত বছর অস্ট্রেলীয় সরকার তাদের পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ বহর নির্মাণের জন্য টোকিও-ভিত্তিক মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজকে বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেয়, যেখানে জার্মানির থাইসেনক্রাপের সাথে একটি তীব্র দরপত্র যুদ্ধ হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া আগামী দশকে সামরিক খাতে রেকর্ড ৩০,৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি এমন স্তরে দেশটির নৌ শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যানবেরার প্রতিরক্ষা ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ থেকে ৩০৩৩ সালের মধ্যে ৩ শতাংশে উন্নীত হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%