ভাঙ্গায় সুমন শেখ হত্যায় উত্তাল ২২ গ্রাম বিচারের দাবিতে থানায় নারীদের বিক্ষোভ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সুমন শেখ নিহতের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত সোমবার রাতে কুমার নদের তীরে পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সুমনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। এশার নামাজের পর ঈদগাঁ মাদরাসা মসজিদে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। সুমনের অকাল মৃত্যুতে বিচার চেয়ে সকাল থেকেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে কাপুড়িয়া সদরদীসহ ২২টি গ্রামের মানুষ। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে প্রতিবাদ সভার পাশাপাশি ফরিদপুর, বরিশাল ও মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা।

বুধবার রাতে সাবেক নারী কমিশনার পারুলী আক্তারের নেতৃত্বে শত শত নারী ভাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে সমবেত হন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে থানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয় এবং পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান। বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের সঙ্গে তাদের ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্য বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে খুনি ও সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ভাঙ্গার মাটিতে কোনো খুনি বা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। সংসদ সদস্যের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফিরে যান। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%