শরীয়তপুরে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১৮ লাখ টাকার মালামাল

শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া আট ভরি সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে পালং মডেল থানা ও চিকন্দী ফাঁড়ি পুলিশের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফাকান্দী গ্রামের সিপলু খান (৫০), আতাহার আলী (৩৫), মো. রুবেল (২৭), মো. সাগর (২৬) ও মো. সুমন (২৫)। তারা শৌলপাড়া, গঙ্গানগর ও জয়েনগর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট গভীর রাতে শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর খলিফাকান্দী গ্রামের মৃত নূর হোসেন শেখের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চোরেরা বাড়ি থেকে আট ভরি সোনা ও নগদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পরে চুরি করা সোনা ও অন্যান্য মালামাল চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত সিপলু খানের কাছে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানায়। উদ্ধার হওয়া চুরি যাওয়া মালামালের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
চুরির ঘটনায় মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মৃত নূর হোসেন শেখের স্ত্রী জয়গুন নেছা পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ আলম ও চিকন্দী ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে সদর ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তার সিপলু খান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ্ আলম জানান, এ ঘটনায় প্রচলিত আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
