নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার ও সহযোগী গ্রেপ্তার

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি ধারণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আবু মিয়া (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল (৫০) পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল। ওই সময় বকুল কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকুলের সহযোগী এক নারী কৌশলে ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বাধীন চক্রের একাধিক সদস্য তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে। সবশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
গত ১ আগস্ট ধর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শারীরিক পরীক্ষা করালে ভুক্তভোগী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে শনাক্ত হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, এই জঘন্য ঘটনার পর বুধবার রাতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার দায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আবু মিয়াকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীর পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
