Advertisement

যন্ত্রাংশের আড়ালে মোংলা বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ি পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ

ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির আড়ালে বিলাসবহুল চারটি গাড়ি চোরাচালানের একটি বড় চক্র শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মোংলা বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় থাকা একটি চালানে জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে আসা এসব গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উদ্ধার হওয়া বিলাসবহুল গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এসব মূল্যবান গাড়িকে মাত্র ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ১৪ ধরনের ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল। অথচ বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাড়িগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

বিজ্ঞাপন

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল সি-৬৯০৪ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১৬৪ প্যাকেজের এই চালানটি মোংলা বন্দরে পৌঁছায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ চালানটির খালাস স্থগিত করে। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানটির শতভাগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রাংশের নামে আনা এসব পণ্যের মধ্যে গাড়ির সামনের ও পেছনের বড় কাঠামো, ছাদ, ইঞ্জিন, গিয়ার এবং সেন্সরসহ অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলো অক্ষত ছিল। এই অংশগুলো জোড়া দিলেই গাড়িগুলো পুনরায় সচল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমদানিকারকরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে গাড়িগুলোকে টুকরো করে যন্ত্রাংশ হিসেবে উপস্থাপন করে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা চালিয়েছে, যার ফলে প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর মডেল এবং বয়স পর্যালোচনার ভিত্তিতে শুল্ক ফাঁকির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ সালের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই এবং ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০-এর মতো উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে জালিয়াতির মাত্রা অনেক বেশি। কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোংলা কাস্টম হাউসে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও যদি তার মূল বৈশিষ্ট্য বা এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার বিদ্যমান থাকে, তবে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতা রুখতে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

0%
0%
0%
0%