Advertisement

মাদক সেবনে বাধা ও চাঁদাবাজির জেরেই রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে নৃশংস হত্যা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণ ছিল না বলে উঠে এসেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে। সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বয়ান ও গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দেখা গেছে, স্থানীয় বখাটে মাদকসেবীদের চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াই ছিল এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ছাদে বসে মাদক সেবন করত। বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে ছাদে মাদক সেবনে বারবার নিষেধ করায় ওই বখাটে চক্রটি শিক্ষক পরিবারের ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিল। এই বিরোধের জের ধরেই তারা পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি।

বিজ্ঞাপন

মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় মাদকের অবাধ বিচরণ এবং নজরদারির অভাবের সুযোগ নিয়ে বখাটে তরুণরা চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দোকানে কাজ করলেও তাদের মূল কর্মকাণ্ড ছিল মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জিন্নাত হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চললেও স্থানীয় বাসিন্দারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও শোক র‌্যালি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে সাবেক ধর্মীয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্থানীয়রা এবং নিহতের স্বজনরা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%