Advertisement

খুলনা বিভাগে মাদক ও অস্ত্র কারবারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট নেপথ্যের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে

খুলনা বিভাগে মাদক ব্যবসার বিস্তার ও এর সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালানের যোগসূত্র নতুন করে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মাদক কারবারিরা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের কৌশল আমূল পরিবর্তন করেছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার সরাসরি সাক্ষাতের প্রয়োজন ফুরিয়েছে, ফলে অপরাধীরা এখন আরও নিভৃতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, খুলনা বিভাগে ১২ জন মাদক ‘গডফাদার’ এবং ২২৫ জন পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে বাগেরহাটে পাঁচজন, সাতক্ষীরায় তিনজন, নড়াইলে দুজন, খুলনায় একজন ও ঝিনাইদহে একজন গডফাদার চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় ৫২ জন, সাতক্ষীরায় ৪০ জন ও খুলনায় ৩৮ জনসহ পুরো বিভাগে বিশাল এক নেটওয়ার্ক কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

মাদক পরিবহনের ধরনেও এসেছে ভিন্নতা। বর্তমানে সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, কুমিল্লা থেকে গাঁজা এবং চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার বড় চালান আসছে। এসব চালান পরিবহনে এখন নারীদের বাহক হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নিজখামার এলাকায় অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি রিভলবার, পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র কারবারের গভীর যোগসূত্র উন্মোচিত হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, বিজ্ঞাপন কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১২ জন অস্ত্র ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের ওপর বর্তমানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে নিয়মিতভাবে বাহক ও খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূল হোতারা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শুধুমাত্র বাহকদের গ্রেপ্তার করে এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভাঙা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এবং অর্থের প্রবাহের সূত্র ধরে মূল নিয়ন্ত্রকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে তবেই মাদক ও অস্ত্র নির্মূল করা সম্ভব হবে।

0%
0%
0%
0%