গোসাইরহাটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ায় নারীকে নির্মম মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ন কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে হেলিনা বেগম (৪৫) নামে ওই নারীকে তার প্রতিবেশীরা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেছে বলে পরিবারের দাবি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত উজ্জ্বল তপদ্দার সামন্তসার ইউনিয়নের সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাচ্চু তপদ্দারের ভাই এবং একই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা। পূর্বের রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, সকালে আহত অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ভর্তি রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী হেলিনা বেগম অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গেলে উজ্জ্বল তপদ্দার তাকে কটূক্তি করেন এবং আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে আপত্তি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়। শনিবার প্রতিবেশীর বাড়িতে খিচুড়ি খেতে গেলে আগের বিরোধের জেরে উজ্জ্বল তপদ্দার, তার স্ত্রী ও তার মা তাকে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি। “আমার মাথায় মেরেছে, রক্ত বের হয়েছে। আমি গরিব মানুষ। আমি এই ঘটনার বিচার চাই,” বলেন হেলিনা বেগম। পাশাপাশি তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসার অভিযোগও তোলেন।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ঘটনার সময় তিনি বাজারে কলা বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন, তার স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের ভেতরে পড়ে আছেন এবং ঘরের মেঝেতে রক্ত লেগে আছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এর আগেও উভয়ের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। তাদের দাবি, আগের ক্ষোভ থেকেই এদিন সুযোগ নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত উজ্জ্বল তপদ্দারের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঝগড়ার সময় হেলিনা বেগম নিজেই পড়ে গেছেন। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও)কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি একটি ফৌজদারি বিষয় হওয়ায় ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
গোসাইরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত- বিএনপি মারধর
0%
0%
0%
0%