কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে নারী যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজি ও মিশুক চালকদের ছদ্মবেশে বেড়েছে ছিনতাই

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালকের ছদ্মবেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি বেপরোয়া ছিনতাই চক্র। ১৮ অক্টোবর দুপুরে এবং ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে সংঘটিত কয়েকটি লোমহর্ষক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। দিনের আলোয় এবং রাতের আঁধারে সমানতালে চলা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের অন্যতম সহজ মাধ্যম সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুককে টার্গেট করে অপরাধীরা অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে। চালকের ছদ্মবেশে বা গাড়িতে আগে থেকেই সহযোগী যাত্রী বসিয়ে এই চক্রটি নারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। ১৮ অক্টোবর দুপুরে মিশুক নিয়ে রোগী দেখতে ট্রেনিং সেন্টার থেকে হাড়িসর্দার এলাকায় যাচ্ছিলেন চৌদ্দগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিয়া জামান। পথিমধ্যে মহাসড়কের অফবিট হোটেলের সামনে পৌঁছলে পেছন থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি সজোরে টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই আকস্মিক হামলায় অন্তঃসত্ত্বা ওই চিকিৎসক গাড়ি থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

মহাসড়কে অপরাধ দমনের বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার জানান, যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশের মোবাইল টিমগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সিএনজি অটোরিকশার ভেতরে যাত্রীবেশে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটি বিভিন্ন অজুহাতে ছিনতাই চালিয়ে আসছে। এসব অবৈধ যানবাহন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

০%
০%
০%
০%