নেত্রকোনায় শিশু ধর্ষণ ও নবজাতকের বাবা মাদরাসা শিক্ষক, ডিএনএ প্রতিবেদনে সত্যতা নিশ্চিত

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচারকাজ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর ভুক্তভোগী শিশুটি নানাবাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। গত এপ্রিল মাসে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পরীক্ষায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়, যেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিআইডির মাধ্যমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই অগ্রগতিতে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

০%
০%
০%
০%