চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জোবাইক সেবা চালু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করল ১০টি অত্যাধুনিক প্যাডেল-অ্যাসিস্ট জোবাইক। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির মুখে পুনরায় চালু হওয়া এই সেবা ক্যাম্পাসের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে আগামী ৪০ দিনের জন্য ক্যাম্পাসের পাঁচটি নির্ধারিত জোনে এই বাইকগুলো চলাচল করবে। শিক্ষার্থীরা মুঠোফোনে অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বাইকগুলো আনলক করতে পারবেন। পরীক্ষামূলক এই সময়ে বাইক ব্যবহারের জন্য প্রতি মিনিটে ভাড়া গুনতে হবে ১ টাকা ৫০ পয়সা। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে ক্যাম্পাসে মোট ১০০টি প্যাডেল-অ্যাসিস্ট জোবাইক নামানো হবে এবং তখন ভাড়ার হার কমিয়ে প্রতি মিনিটে ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই সেবা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সময় সাশ্রয়ে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত হলো। তিনি শিক্ষার্থীদের এই সেবার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদে সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতাই এই প্রকল্পের সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২০২৫ সালে জোবাইকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী রেজার সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী রেজা জানান, শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা ও আগ্রহকে বিবেচনায় রেখে আগামী ৪০ দিনের মধ্যে ক্যাম্পাসে আরও ৫০টি ই-বাইক যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি সুনির্দিষ্ট পার্কিং পয়েন্ট স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক জো ক্যাফে নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়নমুখী দর্শনকে সামনে রেখে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা ক্যাম্পাস জীবনকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

০%
০%
০%
০%