বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ নয় স্থায়ী পুনর্বাসনই এখন মূল দাবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্ব হারানো মানুষ এখন সাময়িক ত্রাণের চেয়ে টেকসই পুনর্বাসন ও মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের নিশ্চয়তাকে বড় দাবি হিসেবে দেখছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৫৪টি ওয়ার্ড প্লাবিত হওয়ায় প্রাথমিক হিসাবে ১১ হাজার ১১০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হাজারো মানুষ এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী আবাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন।
খানখানাবাদ, গুনাগরি, বাহারছড়া, ছনুয়া, পুঁইছড়ী, শেখেরখীল, চাম্বল, গণ্ডামারা, জলদী, সরল, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও বৈলছড়ী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো মূলত ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী পুনর্বাসন ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি গৃহহারাদের জন্য ঘর নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী সোমবার ৩১ আগস্ট বাঁশখালী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। সফরকালে তিনি এনজিওগুলোর ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত এক হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, সরকারের লক্ষ্য কেবল সাময়িক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে এসব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
