ক্ষেতলালে ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখ চাষে কৃষকের সফলতা ও লাভের নতুন সম্ভাবনা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষকরা প্রচলিত ধান, গম ও সবজি চাষের পরিবর্তে লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক বছরে আলু ও বিভিন্ন সবজি চাষ করে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন নতুন এই জাতের আখ চাষে আশার আলো দেখছেন। উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মো. জাকারিয়া ১৯ কাঠা জমিতে এই আখ চাষ করে এরই মধ্যে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন।
বর্তমানে পুরো উপজেলায় প্রায় ৮ বিঘা জমিতে ফিলিপাইন ব্ল্যাক আখের চাষ হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফল হওয়া কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন খোলসাগাড়ি গ্রামের আওয়াল তালুকদার, বটতলী বাজারের নুরুন্নবী, হাজী মিনিগাড়ি গ্রামের তাজেল ও ইদ্রিস মণ্ডল, আলামপুর ইউনিয়নের ইয়াসিন এবং আয়মারপুর গ্রামের রাজ্জাক। কৃষকদের তথ্যমতে, সাধারণ জাতের আখের তুলনায় এই জাতটি তুলনামূলক নরম, অত্যন্ত রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় সরাসরি চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষে কিছুটা বাড়তি খরচ ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। আখ নরম হওয়ায় শিয়ালের উপদ্রব থেকে রক্ষায় জমিতে নেটের বেড়া দেওয়া এবং উচ্চতা বাড়লে বাঁশের খুঁটির সহায়তায় তা বেঁধে রাখার প্রয়োজন পড়ে। তবে প্রচলিত শক্ত আখের তুলনায় এই জাতটি ১২ থেকে ১৫ মাসের পরিবর্তে এক বছরের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো মুনাফার আশা করছেন। প্রতিটি আখ ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে উৎপাদন খরচ বাদেও কৃষকদের হাতে ভালো অংকের লাভ থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পানি জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি আখ চাষের জন্য উপযোগী। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই আখের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জাতের আখে মাজরা পোকা বা লাল পচা রোগের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়, যা চাষিদের জন্য বাড়তি সুবিধা। তবে ভালো ফলনের জন্য সঠিক সময়ে জমি তৈরি, নিবিড় পরিচর্যা ও মানসম্পন্ন বীজ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।
ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক পরিসরে চাষ শুরু না হলেও বেশ কয়েকজন কৃষক এই আখে সফলতা পাওয়ায় অন্যদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বীজ সংগ্রহ ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণে সুবিধা পেলে অদূর ভবিষ্যতে এই জনপদের অর্থনীতিতে নতুন এই ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
