AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৯টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। মিনেসোটায় একই ধরনের হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে মিশিগানের এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলো। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই জানিয়েছে, তারা এসব সাইবার হামলার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গত সপ্তাহে এফবিআই, সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা বা সিসা এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, ইরানের হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালাতে পারে। এই সতর্কবার্তার পরপরই মিশিগান ও মিনেসোটায় ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেল। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, অন্তত ৭টি অঙ্গরাজ্যের অবকাঠামোতে অশুভ তৎপরতার খবর পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কেবল মিশিগান ও মিনেসোটার ঘটনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মিশিগানের পরিবেশ, গ্রেট লেকস এবং জ্বালানি বিভাগের যোগাযোগ পরিচালক ডেল জর্জ জানিয়েছেন, সাইবার হামলার কবলে পড়লেও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অস্বাভাবিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। এর আগে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের অঙ্গরাজ্যে ৩০টি স্থানে এ ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যার বেশিরভাগই পানির মান ও সরঞ্জামের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় পানি শোধনাগারগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো প্রযুক্তিতে পরিচালিত হওয়ার কারণে সাইবার আক্রমণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়েছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটার ঘটনাকে ইরানি সাইবার হামলা হিসেবে মানতে নারাজ। এর বিপরীতে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সরাসরি ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন এবং ট্রাম্পের আমলের প্রশাসনিক কর্তনের ফলে সাইবার নিরাপত্তার সক্ষমতা কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা পানিসম্পদ খাতের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন এবং যেকোনো ধরনের সাইবার হুমকি মোকাবিলায় তাদের আন্তঃসংস্থা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এখনো প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাময়িক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের বড় কোনো বিধিনিষেধ মানার প্রয়োজন পড়েনি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%