নির্মাণসামগ্রীর স্তূপে স্থবির নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের সিংহভাগ জুড়ে বালু ও পাথরের পাহাড়সম স্তূপ পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশসহ খেলাধুলা ও চলাচলে তীব্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠের নতুন ছয়তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য করা গভীর খননস্থলে বৃষ্টির পানি জমে বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নড়াইল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ছয় কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার মিরন এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্ত থাকলেও, পরে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেনপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

দুটি পুরাতন ভবন অপসারণ ও নতুন ভবনের পাইলিং শেষে বেজমেন্ট ঢালাইয়ের প্রস্তুতির সময় থেকেই প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বালু ও পাথরের মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড মানতে গড়িমসি করায় এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করায় বর্তমানে পুরো নির্মাণযজ্ঞ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে কাজে কমিশন বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করে তিনি জানান, মানসম্মত কাজ বুঝে নিতে গিয়েই ঠিকাদারদের বিরাগভাজন হতে হয়েছে। দ্রুত এ অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকরী পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%