AdvertisementAdvertisement

সরিষাবাড়ীর রাধানগর সানসেট পয়েন্টে পর্যটক হয়রানি ও নিম্নমানের খাবারের রমরমা বাণিজ্য

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে যমুনা নদীর তীরবর্তী রাধানগর সানসেট পয়েন্ট মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সূর্যাস্ত উপভোগের কারণে পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই পর্যটনকেন্দ্রটিকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, এখানে গড়ে ওঠা ফাস্টফুডের দোকানগুলো ডিজিটাল ক্যাটালগে খাবারের লোভনীয় ছবি দেখালেও বাস্তবে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করছে এবং পণ্যের গুণমান অনুযায়ী অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।

জাহাঙ্গীর আলম, শাহীন আলম সরকার ও লাকী আক্তারের মতো ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা জানান, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে তারা ক্যাটালগ দেখে যে খাবারের ফরমাশ দিয়েছিলেন, পরিবেশিত খাবারের সাথে তার কোনো মিল নেই। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভিড় বাড়লে খাবারের মান আরও নিচে নেমে যায়। শিক্ষার্থী সানজিদা ছোলাইমান আওকী ও সাদিয়া ছোলাইমান রেইকী অভিযোগ করেন, পানীয়ের নামে কেবল বরফ ও বিট লবণ মিশ্রিত সাধারণ শরবত পরিবেশন করে চড়া দাম নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একাধিক দর্শনার্থীর দাবি, নিম্নমানের খাবারের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বিক্রেতারা তাদের সঙ্গে প্রায়শই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওষুধ ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম শান্ত ও আনিছুর রহমান খোকনের মতে, ফুচকা ও চটপটির মতো খাবারগুলো স্বাদহীন এবং অস্বাস্থ্যকর। অনেক দর্শনার্থী বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অভিযোগ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, যার ফলে বিক্রেতারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, যমুনা নদীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ভাসমান রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। পর্যটন সম্ভাবনাময় এ স্থানটির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাবারের মান ও মূল্য তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

0%
0%
0%
0%