সীতাকুণ্ডে খাল দখল ও জলাবদ্ধতা আবুল খায়ের স্টিলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে প্রাকৃতিকভাবে বয়ে চলা খালের গতিপথ পরিবর্তন ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে আবুল খায়ের স্টিল মিলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিল কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অন্তত ২০০টি বসতবাড়ি এখন হাঁটু সমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি এসব পরিবারের ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল ও রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় চরম খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। নষ্ট হয়েছে গৃহস্থালির মূল্যবান আসবাবপত্র ও জ্বালানি। এছাড়া ভারী লরি ও ট্রাকের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সুরাহা ও সড়ক সংস্কারের দাবিতে গতকাল রোববার সকালে মিলের মূল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে চার ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বারবার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করার পরও পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা হয়নি। উল্টো কারখানার ভেতরের পানি পরিকল্পিতভাবে লোকালয়ের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. টিটু ও সৈয়দ মো. বাপ্পী জানান, সরকারি খাস পাহাড় ও খাল দখল করে কারখানার পরিধি বাড়ানোর ফলে আজ এলাকাবাসী অভিশাপের শিকার। অতীতে এলাকায় এমন জলাবদ্ধতা দেখা না দিলেও, মিল কর্তৃপক্ষের দখলদারিত্বের কারণে পুরো গ্রাম এখন পানির নিচে নিমজ্জিত। শিল্পের নামে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা সংকটাপন্ন করে তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফখরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। কারখানার কর্মকাণ্ডের ফলে যদি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সরকারি সড়ক এককভাবে দখল করে রাখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে আবুল খায়ের গ্রুপের এজিএম ইমরুল কায়েস জলাবদ্ধতার দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তি নিরসনে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%