চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মসজিদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১৭, মীমাংসা বৈঠক পণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে কোরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের এই ঘটনার রেশ ধরে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনের দপ্তরে আয়োজিত বৈঠকটিও ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠক চলাকালীন দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হিমশিম খেতে হয়।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়া মডেল মসজিদ মিলনায়তনে নারীদের জড়ো করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ নামক একটি ভুয়া আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এই পোস্টটি শেয়ার করার অভিযোগে দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবির সভাপতি সুমনকে মারধর করে ক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা।

রবিবারের মীমাংসা বৈঠকে শিবির নেতা সুমনকে মারধরের বিষয়টি জামায়াত নেতৃবৃন্দ উত্থাপন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে বিএনপি নেতাকর্মীরাও শহরে জড়ো হন। এ সময় মিছিলের উদ্দেশ্যে আসা নসিমন গাড়িতে থাকা আব্দুল মালেক, আনারুল ও এনামুলসহ ১৭ জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শিবির নেতা সুমনকে তুলে নিয়ে একটি ক্লাবে আটকে রেখে পুনরায় মারধর করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু অভিযোগ করেন, সরকারি মডেল মসজিদ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। তিনি আরও জানান, মিথ্যা আইডি ব্যবহার করে দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিবির নেতা সুমনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, যথাযথ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে শোকজ করা হয়েছে। মীমাংসা সভায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ-জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে জনমনে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%