পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় বিচ্ছিন্ন বান্দরবান, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

টানা পাঁচদিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলা এবং এর আশপাশের উপজেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে জেলা শহরের নিম্নাঞ্চলে পানি হু হু করে বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের কেরানীহাট এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ সড়কে পাহাড়ধসের ফলে সারা দেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বান্দরবানের প্রধান নদী সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে জেলা শহরের কসাইপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন; অনেক ভবনের নিচতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বহুতল ভবনের ওপরের তলায় অবস্থানরত মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন, তাদের উপার্জন বন্ধ হওয়ায় দিন কাটছে চরম অসহায়ত্বে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং জেলা প্রশাসক সামিউল ফেরদৌসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আলীকদম উপজেলার দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী কোনো বাধা না মেনে কলার ভেলায় চড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে বন্যার্তদের খোঁজখবর নিয়েছেন। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদে আয়োজিত জরুরি সভায় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৩৩০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে এবং এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিলের নেতৃত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। বিজিবি সদস্যরা ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এলাকা থেকে ১২২টি পরিবারকে উদ্ধার করে শহীদ মোশাররফ বিজিবি স্কুল ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করেছেন। আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ সরবরাহসহ নারী ও শিশুদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিজিবি।
