চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের আহ্বান মিয়া গোলাম পরওয়ারের

গাজীপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই সনদ: নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে আর কালক্ষেপণ না করে চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে তা দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে। জাতিকে রাজপথে নামানোর পরিস্থিতি তৈরি না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবীর সঞ্চালনায় সেমিনারটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা উচিত।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশোধন এবং ৩৭টি নির্বাহী আদেশ বা নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঐকমত্য হয়েছিল। তবে বাস্তবে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পৃথক রাখা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের সীমিত স্বাধীনতা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপত্তি জানানো দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ ফ্যাসিবাদ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জুলাই সনদের প্রতিটি সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ, আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাই সংবিধানের লক্ষ্য। সংবিধানবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সেমিনারে সাবেক সচিব শেখ এ কে এম মোতাহার হোসেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবুল হাসেম খান, ড. জাহাঙ্গীর আলম, মো. খায়রুল হাসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শাকিলের পিতা মো. বেলায়েত হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
