AdvertisementAdvertisement

মধুপুর জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রোপওয়ে নির্মাণ

টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বন বিভাগ। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া এই মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগামী যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রতিনিয়ত বানর, হনুমান, গন্ধগোকুল ও মেছোবিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছিল। এই সংকট নিরসনে উদ্যানের সদর রেঞ্জ এলাকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক রোপওয়ে বা উড়াল সেতু।

বন বিভাগের তথ্যমতে, গাছের সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত এই রোপওয়ে ব্যবহার করে এখন গাছে বসবাসকারী প্রাণীরা মাটির স্পর্শ ছাড়াই এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলাচল করতে পারছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা প্রায়ই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড উপেক্ষা করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান, যা বন্যপ্রাণীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়। প্রাণীদের এই ঝুঁকি কমাতে নির্মিত উড়াল সেতুগুলো বর্তমানে তাদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও বনের আয়তন অনুযায়ী রোপওয়ের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে নির্মিত পাঁচটি সেতু যথেষ্ট নয়, তাই বনের আরও বিস্তৃত অংশে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন। এছাড়া পর্যটকদের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের খাবার খাওয়ানো বন্ধ করতে পৃথক দর্শনার্থী জোন তৈরির দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে প্রাণীরা পাকা রাস্তায় আসার পরিবর্তে বনের ভেতরই নিরাপদ থাকতে পারে।

উল্লেখ্য যে, এক সময়ের সুবিস্তৃত মধুপুর বনাঞ্চল বর্তমানে বন উজাড়, খাদ্য সংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। বিগত কয়েক দশকে বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংসের মুখে পড়ায় প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এখন নির্মিত এই রোপওয়েগুলো বন্যপ্রাণীর মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে এবং বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%