রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর উদ্যোগ

টানা পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
উপজেলার ঘিলাছড়ি ও গাইন্দ্যা ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় পাহাড়ধসের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভয়াবহ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার এখনো পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি বাসিন্দাদের অতিবর্ষণ ও পাহাড়ধসের হাত থেকে বাঁচতে অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজস্থলী ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা প্রদীপ ত্রিপুরা, উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের সহকারী মো. গোফরানসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান জানান, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি রোধ করতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মোট ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৪০ জন বাসিন্দা অবস্থান নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবশিষ্ট লোকজনকেও দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ধরনের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য এলাকাবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।